ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিকল্পনা কীভাবে করবেন
অনেকেই মনে করেন ঋণ থাকা অবস্থায় বিনিয়োগ শুরু করা ঠিক নয়। বাস্তবে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ঋণের কিস্তি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছোট পরিসরে বিনিয়োগও শুরু করা সম্ভব — বরং সময়ের সাথে এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রথমে অগ্রাধিকার ঠিক করুন
সাধারণ নিয়ম হলো — উচ্চ সুদের ঋণ (যেমন ক্রেডিট কার্ড ঋণ) থাকলে সেটি আগে পরিশোধ করা ভালো, কারণ এর সুদের হার প্রায় যেকোনো বিনিয়োগের রিটার্নের চেয়ে বেশি। কিন্তু তুলনামূলক কম সুদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ (যেমন হোম লোন) চালু রেখেই পাশাপাশি বিনিয়োগ করা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
বাংলাদেশে জনপ্রিয় কিছু বিনিয়োগ মাধ্যম
- DPS (মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প) — নির্দিষ্ট মাসিক অঙ্ক জমা রেখে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে একসাথে টাকা পাওয়া যায়, ঝুঁকি কম।
- সঞ্চয়পত্র (Sanchaypatra) — সরকার অনুমোদিত সঞ্চয় মাধ্যম, তুলনামূলক নিরাপদ ও নির্দিষ্ট রিটার্ন দেয়।
- মিউচুয়াল ফান্ড — পেশাদারভাবে পরিচালিত বিনিয়োগ তহবিল, বাজার-সংশ্লিষ্ট রিটার্ন দেয়, তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি ও সম্ভাবনা দুটোই থাকে।
- শেয়ারবাজার — দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা থাকলেও এতে বাজার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাই যথেষ্ট জ্ঞান নিয়ে এগোনো উচিত।
ছোট থেকে শুরু করুন
বড় অঙ্ক দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করার দরকার নেই। ঋণের কিস্তি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে যেটুকু অতিরিক্ত থাকে, তার একটি অংশ নিয়মিত বিনিয়োগে দেওয়া শুরু করুন। সময়ের সাথে এই অভ্যাস বড় একটি তহবিলে রূপ নিতে পারে।
ঝুঁকি বৈচিত্র্য আনুন
সব টাকা একটিমাত্র মাধ্যমে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন (diversification) — এতে কোনো একটি মাধ্যমে ক্ষতি হলেও সামগ্রিক ঝুঁকি কম থাকে।